У нас вы можете посмотреть бесплатно হাওড়ায় বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ ৫১ ফুট পঞ্চমুখ শিবমূর্তি । দ্বাদশ জ্যোতিরলিঙ্গ একত্রে দর্শন করুন или скачать в максимальном доступном качестве, видео которое было загружено на ютуб. Для загрузки выберите вариант из формы ниже:
Если кнопки скачивания не
загрузились
НАЖМИТЕ ЗДЕСЬ или обновите страницу
Если возникают проблемы со скачиванием видео, пожалуйста напишите в поддержку по адресу внизу
страницы.
Спасибо за использование сервиса ClipSaver.ru
আজ আমি আপনাদের নিয়ে চলেছি হাওড়া জেলার সালকিয়ার গঙ্গাতীরে অবস্থিত এক অনন্য আধ্যাত্মিক তীর্থক্ষেত্রে— শেঠ বংশীধার জালান স্মৃতি মন্দিরে। এই মন্দির ভক্তি, শান্তি এবং আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব মিলনস্থল। এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ— প্রায় একান্ন ফুট উচ্চতার ভগবান শিবের সুবৃহৎ পাঁচমুখী দণ্ডায়মান মূর্তি এবং দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মন্দিরসহ জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ। এছাড়াও এখানে রয়েছে নানা দেবদেবীর মন্দির, যা এই তীর্থক্ষেত্রকে আরও পবিত্র ও পূর্ণতা দিয়েছে। জানা যায়, হাওড়ার সালকিয়ায় গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি জালান পরিবার ১৯৫২ সালে নির্মাণ করেন। যদিও এই পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারিনি, তবে তাঁদের এই উদ্যোগ আজ অসংখ্য ভক্তের কাছে আশীর্বাদের স্থান হয়ে উঠেছে। পরবর্তীতে মন্দিরটি নবরূপে সংস্কার করা হয় এবং ২০১৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধেয় প্রণব মুখোপাধ্যায় শেঠ বংশীধার জালান স্মৃতি মন্দিরের শুভ উদ্বোধন করেন। এখন এই মন্দির সম্পর্কে বিস্তারিত বলার আগে, চলুন জেনে নিই এখানে কীভাবে আসবেন। আপনারা যারা কলকাতার দিক থেকে আসবেন, তারা চক্ররেল বা অন্য কোনো যানবাহনে করে চলে আসুন শোভাবাজার–আহীরিটোলা চক্ররেল স্টেশনে। সেখান থেকে সামান্য দূরত্বের হাটা পথে পৌঁছে যাবেন আহীরিটোলা ফেরিঘাটে। আর যারা মেট্রো রেলে আসবেন, তারা শোভাবাজার মেট্রো স্টেশনে নেমে অটো রিকশায় সহজেই চলে আসতে পারেন আহীরিটোলা ফেরিঘাট। এই ফেরিঘাট থেকে লঞ্চে গঙ্গা পার হয়ে আসতে হবে বাঁধাঘাটে। লঞ্চ ভাড়া জনপ্রতি মাত্র ৮ টাকা। বাঁধাঘাট থেকে মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন মন্দিরে। আর যাদের হাঁটতে অসুবিধা আছে, তারা অটো পেয়ে যাবেন— ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। আর যারা হাওড়া স্টেশন থেকে আসছেন, তারা সাবওয়ে দিয়ে ২ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে অটো বা 24A বাসে করে চলে আসুন বাঁধাঘাট। সেখান থেকে ১৫ মিনিটে হেঁটেই অথবা অটো করে দশ টাকা জনপ্রতি ভাড়া দিয়ে পৌঁছে যাবেন এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে। তবে, আমি বরানগর কুটিঘাট ফেরিঘাট থেকে লঞ্চে চলে এলাম বেলুড় মঠ ফেরিঘাট। ফেরিঘাট থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটা পথে চলে এলাম জি.টি. রোড। সেখান থেকে একটি টোট ধরে ২৫ টাকা ভাড়ায় চলে এলাম এই মন্দিরে। মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই মনে হলো— যেন শহরের কোলাহল পেরিয়ে হঠাৎই এসে পড়েছি এক শান্ত, পবিত্র জগতে। এখানে বাতাসেও যেন ভক্তির স্পর্শ। মন্দির প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চোখে পড়ল কয়েকটি শিবমূর্তি এবং শিব–পার্বতীর মৃন্ময় প্রতিমা। তাদের শান্ত মুখাবয়ব যেন নীরবে আশীর্বাদ দিচ্ছে আগত সকল ভক্তকে। মন্দিরের সামনেই রয়েছে শীতের বাহারি ফুলে সাজানো এক মনোরম বাগান। রঙিন ফুলে ভরা এই উদ্যান পুরো পরিবেশকে আরও স্নিগ্ধ করে তুলেছে। প্রাঙ্গণের বাঁদিকে রয়েছে “গায়ত্রী জ্ঞান মন্দির” নামে পূজার সামগ্রীর একটি দোকান। এরপর আমরা চলে এলাম মূল শিব মন্দিরে। এখানে অধিষ্ঠিত আছেন বাবা বঙ্গেশ্বর শিবলিঙ্গ। শিবলিঙ্গ দর্শন করার মুহূর্তে মন যেন আপনা থেকেই শান্ত হয়ে গেল। ধূপের সুগন্ধ আর ঘণ্টাধ্বনি মিলিয়ে তৈরি করেছে এক অপার্থিব পরিবেশ। এরপর একে একে দর্শন করলাম মন্দির সংলগ্ন অন্যান্য দেবদেবীর মন্দির ও বিগ্রহ। প্রতিটি মন্দির যেন আলাদা এক আধ্যাত্মিক অনুভূতির দরজা খুলে দেয়। মন্দিরের ঠিক অপরদিকে প্রবাহিত পতিত পাবন গঙ্গা। আর তার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ— একান্ন ফুট উচ্চতার সুবিশাল পাঁচমুখী শিবমূর্তি। মূর্তিটির সামনে দাঁড়িয়ে অপলক তাকিয়ে রইলাম। মনে হচ্ছিল— মহাদেব যেন তাঁর বিশালত্বে আকাশ ছুঁয়ে আছেন, আর তাঁর করুণাময় দৃষ্টি আশ্রয় দিচ্ছে সকল ভক্তকে। কিছুক্ষণ প্রাণভরে শিব দর্শন করার পর এগিয়ে গেলাম একটি পাহাড় ও গুহার প্রতিরূপের দিকে। এখানেও দেবাদিদেব মহাদেবের মাহাত্ম্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গুহার ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম এই মন্দিরের আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ— যেখানে রয়েছে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরের প্রতিরূপ। একটির পর একটি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ দর্শন করতে করতে মনে হলো— যেন সারা ভারতের পবিত্র শিবশক্তি এখানে একত্রিত হয়েছে। সব জ্যোতির্লিঙ্গে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব হয় না… কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে মনে হবে— যেন একসাথেই পেয়ে গেলেন বারোটি তীর্থের আশীর্বাদ। চারদিকে ভক্তদের কোলাহল, আর কানে ভেসে আসে— “ওম নমঃ শিবায়…” অজান্তেই মন শান্ত হয়ে আসে। চোখ বন্ধ করলেই অনুভব করবেন— মহাদেব যেন খুব কাছেই আছেন। ভক্তদের বিশ্বাস, সত্যিকারের ভক্তি নিয়ে এখানে প্রার্থনা করলে মহাদেব কখনও কাউকে খালি হাতে ফেরান না। শুধু ধর্মীয় মাহাত্ম্যই নয়—এই মন্দিরে আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে প্রতিনিয়ত। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত আসেন আশীর্বাদ নিতে, আর মহাশিবরাত্রিসহ অন্যান্য উৎসবের সময় এই মন্দির পরিণত হয় এক বিশাল ভক্তসমুদ্রে। এই মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হবে.. শান্তি বাইরে কোথাও নয়, শান্তি লুকিয়ে আছে আমাদের অন্তরের মধ্যেই। যদি কখনও জীবনের ব্যস্ততায় মন অবসন্ন হয়ে পড়ে, তবে একবার অবশ্যই চলে আসুন এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে...খুঁজে পাবেন নিজের অন্তরের শান্তি। 🔱 হর হর মহাদেব! 🔱 ************************************************* Under Section 107 of the Copyright Act 1976, allowance is made for 'Fair Use' for purposes such as criticism, comment, news reporting, teaching, scholarship, and research, Fair use is a permitted by copyright statute that might otherwise be infringing, Non-profit, educational or personal use tips the balance in favour of fair use. *************************************************