У нас вы можете посмотреть бесплатно ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যImportant information about the 1952 Language Move или скачать в максимальном доступном качестве, видео которое было загружено на ютуб. Для загрузки выберите вариант из формы ниже:
Если кнопки скачивания не
загрузились
НАЖМИТЕ ЗДЕСЬ или обновите страницу
Если возникают проблемы со скачиванием видео, пожалуйста напишите в поддержку по адресу внизу
страницы.
Спасибо за использование сервиса ClipSaver.ru
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস, তাৎপর্য ও উত্তরাধিকার ভূমিকা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়। এই আন্দোলন ছিল মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম, যা শুধু ভাষার প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ ছিল না—এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদ গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ সুগম হয়। ভাষা আন্দোলনের পেছনে রয়েছে তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সাংস্কৃতিক বৈষম্য এবং ভাষানীতির একতরফা সিদ্ধান্ত। এই দীর্ঘ প্রবন্ধে ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের আত্মত্যাগ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হলো। --- পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম ও ভাষা-সংকটের সূচনা ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান ছিল দুটি ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন অংশ নিয়ে গঠিত—পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)। পূর্ব পাকিস্তানে জনসংখ্যার অধিকাংশ ছিল বাংলা ভাষাভাষী, প্রায় ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ছিল উর্দুভাষী ও অন্যান্য ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী। রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করে। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত বাঙালিদের মধ্যে গভীর অসন্তোষের জন্ম দেয়। --- ১৯৪৮: ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক ধাপ ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি যুক্তি দেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে, তাই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। কিন্তু এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় এক জনসভায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন—“উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” এই ঘোষণার ফলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। একই বছরের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ একই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করলে ছাত্রসমাজ “না, না” ধ্বনিতে প্রতিবাদ জানায়। --- ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন ভাষা আন্দোলনকে সংগঠিত করার জন্য বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন একত্রিত হয়ে গঠন করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ কলেজ, মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন। তৎকালীন ছাত্রনেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে পরিচিত হন। --- ১৯৫২ সালের আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্ব ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকায় এক ভাষণে পুনরায় ঘোষণা করেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এতে পূর্ব বাংলায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: রক্তাক্ত দিন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এই গুলিতে শহীদ হন— আবুল বরকত আবদুস সালাম রফিকউদ্দিন আহমেদ আবদুল জব্বার শফিউর রহমান এই শহীদদের আত্মত্যাগ বাঙালির হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে। ২১ ফেব্রুয়ারি হয়ে ওঠে ‘শহীদ দিবস’। --- শহীদ মিনার নির্মাণ ২১ ফেব্রুয়ারির রাতেই ছাত্ররা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের সামনে একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে। যদিও পুলিশ পরে তা ভেঙে দেয়, কিন্তু শহীদ মিনার আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হয়, যা আজও বাঙালির আত্মত্যাগের স্মারক। --- ১৯৫৬ সালে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে উর্দুর পাশাপাশি পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি ছিল ভাষা আন্দোলনের একটি বড় অর্জন। --- ভাষা আন্দোলনের প্রভাব ১. রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। এটি পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করে। ২. জাতীয়তাবাদের বিকাশ ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি স্থাপন করে। ভাষার ভিত্তিতে জাতিসত্তার ধারণা সুদৃঢ় হয়। ৩. স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি ১৯৫২ সালের চেতনা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা জোগায়। ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ বাঙালিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে সাহস জুগিয়েছিল। --- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। --- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ভাষা আন্দোলন ভাষা আন্দোলন বাংলা সাহিত্য, গান, কবিতা ও নাটকে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিখ্যাত গান— *“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি”* এই গান ভাষা শহীদদের স্মরণে রচিত এবং আজও একুশের চেতনাকে বহন করে। অনেক কবি-সাহিত্যিক ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচনা করেছেন অমর সাহিত্যকর্ম। একুশের কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ বাঙালির সাংস্কৃতিক ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে। --- ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা বর্তমানে ভাষা আন্দোলনের চেতনা কেবল বাংল