У нас вы можете посмотреть бесплатно Annapurna Circuit Trek Via Mesokanto La Pass или скачать в максимальном доступном качестве, видео которое было загружено на ютуб. Для загрузки выберите вариант из формы ниже:
Если кнопки скачивания не
загрузились
НАЖМИТЕ ЗДЕСЬ или обновите страницу
Если возникают проблемы со скачиванием видео, пожалуйста напишите в поддержку по адресу внизу
страницы.
Спасибо за использование сервиса ClipSaver.ru
মেসোকান্ত লা নেপাল , নভেম্বর ২০২৩ মেসোকান্ত লা নেপাল, নভেের দুটো হাম্পকে পাস ভেবে ভুল করলেও এবারে আর কোনো সংশয় নেই | এটাই আমাদের সেই কাঙ্খিত মেসোকান্ত লা | ওই তো দূরে দেখা যাচ্ছে বাদামি রঙের রহস্যঘন মুস্তাঙ, নীচে স্পষ্ট কালী গন্ডকি উপত্যকা | তার দুপাশে অস্পষ্ট সব গ্রাম | উফফঃ !!! সবাই মিলে পাসে উঠে পড়েছি তাহলে শেষমেষ | মনের মধ্যে প্রচন্ড চাপা উত্তেজনা আর আনন্দ থাকলেও উচ্ছাসের প্রকাশ তেমন নেই | কারণ সবাই বড়ো ক্লান্ত, বিদ্ধস্ত | একে আমাদের ল্যাদ টীম | বর্তমানে খেলাধুলা, শরীর চর্চা.... এসবের সাথে কারোর দূর দুরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই | ফিটনেসের একেবারে দফারফা | হাঁটু পর্যন্ত জিভ বেরিয়ে গেছে সক্কলের | সত্যি বলতে পরপর দুটো পাঁচহাজারী পাস করার জন্য আমরা একদমই অনুপযুক্ত একটা দল | অপ্রস্তুতও বটে | দল বলতে আমরা পাঁচজন, সাথে আমাদের গাইড ঋজু আর আমাদের একমাত্র পোর্টার সোম ভাই | আর হাতে অস্ত্র বলতে ঋজুর একটা আইস এক্স | সাথে একটা ছোট প্রেসার কুকার আর প্রমান সাইজের ফুটবলের মতো একটা দু কেজির গ্যাস সিলেন্ডার | তিলিচ বেসক্যাম্প থেকে সোজা বেড়িয়ে ইস্টার্ন পাস ক্রস করে ক্যাম্প লাগাবো আর পরেরদিন মেসোকান্ত ক্রস করে আরেকটা ক্যাম্প করে, তার পরদিন জমসম নেমে যাবো | এই ছিল মোটামুটি একটা কাঁচা প্ল্যান | প্ল্যান ফেল করানোর ব্যাপারে অবশ্য আমরা সিদ্ধহস্ত | এবারেও তার অন্যথা ঘটেনি | আর সময়জ্ঞান আমাদের ততোধিক ভালো | আগেরদিন রাতে প্রচন্ড সিরিয়াসলি সিদ্ধান্ত নেয়া হলো যে কাল ভোর চারটেয় বেসক্যাম্প থেকে স্টার্ট করা হবে | পরেরদিন সেই এক কেস | কম্বল ছেড়ে বেসক্যাম্প থেকে শুরু করতে করতেই ছটা | তিলিচো লেক পৌঁছতেই বেলা বারোটা | তিলিচোর পরের অংশে রাস্তায় যথেষ্ট বরফ | কিছুটা জায়গা ঋজু বরফ কেটে স্টেপ না বানালে তিলচো লেকে হড়কে যাবার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল | তবে এখন প্রধান সমস্যা জলের | ইস্টার্ন পাসের পরে জল পাবার চান্স কম তবে পাসের আগে একদম নীচে একটা নালা থাকার কথা | সেটা ছিলোও কিন্তু ফ্রজেন | তবে বরফের নীচে কুলকুল জল বইছে | ওপরের বরফের চাদর ভেঙে আমাদের সাথে থাকা পাঁচ লিটারের জলের ড্রামটা ভোরে নেওয়া হলো | এইসব লটবহর নিয়ে যখন পাসের শেষ চড়াইটার নীচে পৌঁছলাম তখন প্রায় বিকাল তিনটে | ঠান্ডার প্রকোপও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে | এখন উচ্চতা ৫২০০ মিটার প্রায় | সকাল থেকে হাজার মিটারের বেশি চড়াই ভেঙেছে সবাই | এই অবস্থায় কারোরই আর ওই শেষ কঠিন চড়াই টা ভেঙে পাসে চড়ার ক্ষমতা নেই | তারপর আবার ক্যাম্প লাগাতে হবে ! হাতে সময়ও খুব কম | তাই সেদিনের মতো ওখানেই থামতে হলো | একটু নীচে একটা গর্ত মতন জায়গায় হওয়া বাঁচিয়ে আমরা তবু পাতলাম | রাতের খাবার বলতে এক প্রেসার কুকার নুডল উইথ চিকেন স্যুপ | পারেরদিন ইস্টার্ন পাসে চড়তে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি | ধৌলাগিরি সহ মুস্তাঙ অঞ্চলের অন্যান শৃঙ্গগুলো দেখা যাচ্ছে এবার | তবে এদিকটায় বরফ প্রচুর | মচমচিয়ে বরফ ভাঙতে ভাঙতে বেলা প্রায় পরে এলো | তারপর বাদামি-কালো ঝুরো মাটি, মিহি পাথরের পাহাড়ের বিপজ্জনক ঢালে অস্পষ্ট পথরেখায় নিজেকে সামলাতে সামলাতে উঠে এলাম মেসোকান্ত লা এর উপর | ওদিকে মুস্তাঙ | বাদামি পাহাড়ে সুস্পষ্ট রাস্তার দাগ | উফফ কি আনন্দ | আজ আর কাল মিলিয়ে ঘন্টা ছয়েক আর | জমসম পৌঁছে যাবো | কিন্তু ওই... আমরা ভাবি এক আর হয় এক | কেস টা খেলাম পাস থেকে নামার সময় | মিহি ঝুরো পাথরের সত্তর-আশি ডিগ্রী গ্রেডিযেন্টের একটা ঢাল | তিন চারশো মিটার তো হবেই | এখন পুরু বরফের আস্তরণে ঢাকা | পদে পদে হড়কাচ্ছি | ফুট তিরিশ নেমেই বুঝলাম ব্যাপার টা ঝুকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে | আমাদের কাছে ছোট দড়ি একটা ছিল | কিন্তু সেটাকে এঙ্কর করার কোনো জায়গা নেই | ঋজু নিজের আইস এক্স টাকে বরফে পুতে এঙ্কর বানানোর একটা চেষ্টা করেছিল কিন্তু তাতে কাজ হয়নি | সবাই কেমন একটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে | এ ওর মুখ চাওয়া চওয়ি করছে কিন্তু উপায় কিছু বেরোচ্ছে না | সত্যি বলতে উপায় কিছু ছিলোও না | শেষমেষ ঋজুই বললো "চলো আজ ফিরে যাই ! পাস থেকে নেমে আরো দু তিনটে হাম্প পিছনে একটা জায়গা দেখেছিলাম | আজ ফিরে গিয়ে ওখানেই ক্যাম্প করে নি | সন্ধেও হয়ে আসছে | কাল সকালে কিছু একটা ভাবা যাবে "| ঋজুর সিদ্ধান্ত টা যে কতটা সঠিক ছিল সেটা পরে বুঝেছি | কঠিন সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া... এটাই তো গাইডের আসল কাজ | রাস্তা তো অফলাইন ম্যাপ দেখেও চেনা যায় ! ক্যাম্প করার একফালি জায়গা খুঁজে পেতে পেতে রাত হয়ে গেলো | তবে সেদিন বোধহয় পূর্ণিমা ছিল | বরফে পাথরে চাঁদের আলো মাখামাখি | মাথার উপর তিলোচো হিমালের দানবিক উপস্তিতি | রাতে একটু চাল ডাল ফুটিয়েছিলাম আমরা | ঠিক খিচুড়ি নয় তবে খিচুড়ির মত | কিন্ত জলের বড়ো অভাব | শুধু পাথর আর বরফ চারিদিকে | গতকাল থেকে সর্বসাকুল্যে এক লিটার জলও প্রত্যেকে পাইনি | আমরা এখন ৫৩৫০ মিটারের ইস্টার্ন পাস আর ৫২৫০ মিটারের মেসোকান্ত লা এর মাঝখানে রয়েছি | এন্ড নভেম্বরের হাড়হিম ঠান্ডা | মাইনাস ১৫ তো হবেই কমকরে | তবে ওয়েদারটা ভালো আছে ! এই যা রক্ষে | সেদিন রাতেই সিদ্ধান্ত হয় যে আর চেষ্টা করে লাভ নেই | পাসে তো উঠেছিলাম | তাই বা কম কি! এরপর ফিরে যাওয়াই ভালো | কিন্তু এখান থেকে ফেরাটাও সহজ নয় | আবার ইস্টার্ন পাস টপকে একই দিনে আমাদের পৌঁছতে হবে তিলিচো বেসক্যাম্প | পরেরদিন খাংসার অথবা মানাঙ | তারপর গাড়িতে বেশিসহর | আমাদের হাতে কোনো বাফার ডেও নেই | এইভাবে ফিরতে যা সময় লাগবে তাতে ফেরার টিকিট গুলো সব মিস হবে | কিন্তু কি আর করার আছে | ভাগ্যে যা আছে হবে | কাল সকালে দেখা যাবে |