У нас вы можете посмотреть бесплатно Heritage Trails of Bangladesh- или скачать в максимальном доступном качестве, видео которое было загружено на ютуб. Для загрузки выберите вариант из формы ниже:
Если кнопки скачивания не
загрузились
НАЖМИТЕ ЗДЕСЬ или обновите страницу
Если возникают проблемы со скачиванием видео, пожалуйста напишите в поддержку по адресу внизу
страницы.
Спасибо за использование сервиса ClipSaver.ru
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এদেশের প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য, লোক সংস্কৃতি ও লোকজ নিদর্শনাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন এবং এ বিষয়ে গবেষণায় নিয়োজিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এ দেশের লোকশিল্প ও লোকজ ঐতিহ্য বিকাশের এক সমৃদ্ধ পাদপীঠ সোনারগাঁও। এমন লোক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পটভূমির পরিপ্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনারগাঁয়ে ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্পের নিদর্শন সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও পুনরুজ্জীবন তথা বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে প্রথম আর্থিক সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে এদেশের মাটি ও মানুষের শিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন পরিচালনার দায়িত্ব দেন । ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ একটি প্রজ্ঞাপন বলে সরকার বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে । ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল সোনারগাঁ । ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের হাতে ফখরুদ্দীনের রাজবংশের পতনের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ বছর সোনারগাঁ সমগ্র পূর্ববঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের সুলতানি শাসনের রাজধানীর মার্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিল। সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ও সিকান্দার শাহের শাসনকালে সোনারগাঁ ছিল পূর্ববঙ্গ প্রদেশের রাজধানী। গিয়াসুদ্দীন আজম শাহের শাসনকালেও সোনারগাঁ রাজধানী ছিল। বার ভূঁইয়া প্রধান মসনদ-ই-আলা ঈসা খানের আমলে (১৫৬০) সোনারগাঁ বাংলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করে। সোনারগাঁয়ের পানাম শহরে ছিল তাঁর প্রধান সামরিক পরিদপ্তর। আনুমানিক ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে ঈসা খান মুঘল সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। এই সোনারগাঁয়ের মধ্য দিয়েই নির্মিত হয় ষোড়শ শতকের দিল্লীর শাসক শের শাহের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড, যা সিন্ধু থেকে সোনারগাঁয় এসে শেষ হয়। সোনারগাঁ শুধু প্রশাসনিক দিক দিয়েই নয়-ধর্ম, সংস্কৃতি, শিল্পকলা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানেও প্রভূত উন্নতি সাধন করেছিল এখানকার প্রাচীন সমাধি, মসজিদ ও স্থাপত্য নিদর্শনই এর যথার্থ প্রমাণ বহন করে । মধ্যযুগে সোনারগাঁও ছিল একটি সমৃদ্ধশালী শহর । মুঘল সুবেদার ইসলাম খানের সময়ে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে সোনারগাঁয়ের গুরুত্ব ম্লান হয়ে যায় । প্রাচীন রাজধানীর শেষ স্মৃতিচিহ্ন অনিন্দ্যসুন্দর পানাম সিটি। পানাম সিটির চারদিকে পরিখার মধ্যভাগে নির্মিত হয়েছিল লাল ইটের ইমারত । পুরাতন ছোট ছোট ইট-সংযোগে তৈরি এ ইমারতগুলো প্রাচীনকালের গৌরবময় ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয় । ব্রিটিশ সময়কালে ইংরেজরা এখানে নির্মাণ করেছিল নীলকুঠি, যা আজও ‘কোম্পানি কুঠি' নামে পরিচিত । জমিদার এবং ব্যবসায়ীরা এখানে রাস্তার দু'ধারে আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ করেছিলেন। এখানে মুঘল, পার্সিয়ান আর ব্রিটিশশৈলী মিলে মিশে একাকার । বর্তমানে রাস্তার উত্তর পাশে ৩১টি এবং দক্ষিণ পাশে ২১টি ইমারতসহ মোট ৫২টি ইমারত রয়েছে। ইতিহাস-ঐতিহ্যে ঋদ্ধিমান সোনারগাঁয়ে রয়েছে অনেক দর্শনীয় নিদর্শন। সোনারগাঁ এবং ঈশা খান একে অপরের পরিপূরক। ১৬শ শতাব্দীর শেষ ভাগে মুঘল সাম্রাজ্যবাদ ও আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে তিনি যে কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তা তাঁকে স্মরণীয় ব্যক্তিতে পরিণত করে । বার ভূঁইয়া প্রধান মসনদ-ই-আলা ঈশা খানের তিনটি রাজধানী ছিল কাত্রাভু, সোনারগাঁ এবং জঙ্গলবাড়ি। এই তিনটি জায়গার মধ্যে সোনারগাঁও ছিল অন্যতম প্রধান রাজধানী । বাংলাদেশের লোককারুশিল্প নকশিকাঁথা ও পাখা- বাংলাদেশের লোক জীবনের রূপ-বৈচিত্র্যের সৃজনশীল বিকাশ ঘটেছে নকশিকাঁথা ও নকশি পাখায় । বাংলার মেয়েরা জীবন-যাপনের প্রয়োজন মেটাতে তাদের দক্ষতা দিয়ে অপরূপ নকশিকাঁথা ও নকশিপাখা তৈরি করেন । জামদানি- উৎকৃষ্ট কার্পাস তুলার সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে হাতে-চালিত তাঁতের সাহায্যে তৈরি প্রাচীন বস্ত্র মসলিনের উত্তরসূরী জামদানি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এবং রুপগঞ্জের তৈরি হচ্ছে । শিতলপাটি- বেতের সরু খিল বা বোতা দিয়ে তৈরি নকশি কোমল পার্টিকে শিতলপাটি বলে। সিলেট অঞ্চলে মুতরা দিয়ে তৈরি পাটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। বুননের সময় প্রয়োজন মতো রঙিন বাতা ব্যবহার করে পাটিতে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।বাঁশ-বেত শিল্প- কুটির নির্মাণ থেকে শুর করে গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে নিত্য ব্যবহার্য নানা দ্রব্য বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয় । মাছ ধরার বেশির ভাগ যন্ত্রই বাঁশ দিয়ে তৈরি। বাংলাদেশে বাঁশের তৈরি জিনিসের চাহিদা আবহমান কালধরে সমাদৃত। কাঠখোদাই (দারুশিল্প)-বাংলাদেশের নকশাকৃত পালঙ্ক, খেলনা পুতুল, জলচৌকি, পিঁড়ি, সিন্দুক ইত্যদি কারুপণ্য তৈরিতে লোক- শিল্পীরা অপূর্ব নৈপুণ্যের পরিচায়ক। সোনারগাঁয়ের চিত্রিত হাতী, ঘোড়া ও খেলনা মমী পুতুল লোকশিল্পের ধারাকে অক্ষুন্ন রেখেছে।সখের হাঁড়ি- কলস বা ঘটসদৃশ মাটির হাড়ির গায়ে সাগু ও আঠার সঙ্গে রং মিশিয়ে তুলির মোটা টানের নকশা ও রেখায় সখের হাড়ি প্রস্তুত হয়। সখের হাঁড়ি সম্পূর্ণরুপে উৎসবের সঙ্গে জড়িত; বিবাহের ফলমূল, মিষ্টান্ন ইত্যাদি আদান-প্রদানে সখের হাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। দৈনন্দিন ব্যবহার উপযোগী তামা, কাঁসা ও পিতলের হাড়িকুড়ি, বাটি, বাসন ও কলসের গায়ে লতাপাতা ও জ্যামিতিক নকশায় শোভিত করা হয়। বর্তমানে গৃহসজ্জায় শো-পিসে পিতল ও তামার ব্যবহার লক্ষনীয়। মাটির পুতুল ও খেলনা-সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, পালা-পাবর্ণ উপলক্ষ্যে কুমারেরা বিভিন্ন ধরণের পুতুল তৈরি করে। বাংলাদেশের মাটির পুতুলের বৈচিত্র্যময় গঠন ও উজ্জ্বল রঙের বিন্যাস শিশুমনকে সহজেই আকৃষ্ট করে।মুখোশ শিল্প- বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে আজও নানা লোকজ ধর্মীয় আচারমূলক অনুষ্ঠানাদিতে নৃত্য ও অভিনয়ে কাগজ, কাঠ, মাটি, কাপড় এবং লাউয়ের খোলের তৈরি নান্দনিক মুখোশের প্রচলন আছে। পটচিত্র শিল্পীরা পটুয়া হিসেবে পরিচিত । এই চিত্রে কাহিনীর পারম্পর্য রক্ষার জন্য পরপর ছবি সাজিয়ে নেয়া হয়। লৌকিক পাঁচালী এবং পালাগান পটচিত্রে দেখা যেত । বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের গাজীর পট বাংলার পটচিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে।