У нас вы можете посмотреть бесплатно ৬৩ সূরা মুনাফিকুন или скачать в максимальном доступном качестве, видео которое было загружено на ютуб. Для загрузки выберите вариант из формы ниже:
Если кнопки скачивания не
загрузились
НАЖМИТЕ ЗДЕСЬ или обновите страницу
Если возникают проблемы со скачиванием видео, пожалуйста напишите в поддержку по адресу внизу
страницы.
Спасибо за использование сервиса ClipSaver.ru
সূরা মুনাফিকুন: মুনাফিকদের স্বরূপ এবং অন্তিম সাবধানবাণী এই সূরাটিতে মুনাফিক বা ভণ্ডদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাদের গোপন মিথ্যাচার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তারা বাইরে ইসলাম গ্রহণের দাবি করলেও অন্তরে অবিশ্বাস পোষণ করে এবং নিজেদের শপথকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। বাহ্যিকভাবে তাদের আকর্ষণীয় ও বাকপটু মনে হলেও মানসিকভাবে তারা ভীতু এবং অহংকারী হয়ে থাকে। তারা বিশ্বাসীদের আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করে, অথচ সকল ঐশ্বর্য ও সম্মানের প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ। মুমিনদের সতর্ক করা হয়েছে যেন সম্পদ ও সন্তানসন্ততি তাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ না করে। পরিশেষে, মৃত্যু আসার আগেই মানবকল্যাণে দান-সদকা করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, কারণ নির্ধারিত সময়ের পর কাউকে আর দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া হবে না। কপট ব্যক্তিদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাদের বাহ্যিক আচরণের মূল ধরণগুলো আসলে কী কী? উৎসগুলোর (সুরা আল-মুনাফিকুন) আলোকে কপট ব্যক্তি বা মুনাফেকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাদের বাহ্যিক আচরণের ধরণগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো: ১. মিথ্যা সাক্ষ্য ও মৌখিক দাবি: মুনাফেকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা মুখে যা বলে অন্তরে তা বিশ্বাস করে না। তারা নবীজির (সা.) কাছে এসে দৃঢ়ভাবে সাক্ষ্য দেয় যে তিনি আল্লাহর রসুল, কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা আসলে ঘোর মিথ্যাবাদী [১]। তারা মূলত মুখে বিশ্বাসী হওয়ার দাবি করলেও মনের গভীরে সত্যকে অস্বীকার করে [২]। ২. শপথকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করা: তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং আত্মরক্ষার জন্য শপথকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে [২]। মিথ্যা শপথের আড়ালে তারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে দেয় [২]। ৩. আকর্ষণীয় দেহভঙ্গি ও মনোমুগ্ধকর কথাবার্তা: বাহ্যিকভাবে মুনাফেকদের বেশ চমৎকার ও প্রীতিকর মনে হতে পারে। উৎস অনুসারে, তাদের দেহভঙ্গি দেখলে মানুষের কাছে তা প্রীতিকর মনে হয় এবং তারা যখন কথা বলে, তখন মানুষ মুগ্ধ হয়ে তা শোনে [২], [৩]। কিন্তু তাদের এই বাহ্যিক চাকচিক্যের বিপরীতে তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা হলো দেয়ালে লাগানো অন্তঃসারশূন্য কাঠের স্তম্ভের মতো [২], [৩]। ৪. চরম ভীতি ও সন্দেহ প্রবণতা: মুনাফেকরা মানসিকভাবে সবসময় অস্থির ও ভীত থাকে। যেকোনো শোরগোল শুনলেই তারা মনে করে এটি বুঝি তাদেরই বিরুদ্ধে এবং তাদের গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা সর্বদা আতঙ্কিত থাকে [২], [৩]। ৫. অহংকার ও উদ্ধত আচরণ: তাদের যখন আল্লাহর রসুলের কাছে এসে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়, তখন তারা দম্ভসহকারে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং সত্যকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে [৩], [৪]। উৎস বলছে, তাদের এই মানসিকতা অত্যন্ত বিকৃত [২]। ৬. অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্র ও সংকীর্ণতা: মুনাফেকরা অত্যন্ত কুটিল বুদ্ধিসম্পন্ন হয়। তারা অন্যদের উৎসাহিত করে যাতে আল্লাহর রসুলের সাথিদের জন্য কোনো কিছু ব্যয় করা না হয়, যেন তারা অভাবে পড়ে সরে যায় [৪]। মহাবিশ্বের সকল সম্পদের মালিক আল্লাহ হওয়া সত্ত্বেও তারা এই সত্যটি বুঝতে পারে না [৪]। ৭. মিথ্যা আভিজাত্য ও দাপট প্রদর্শন: তারা নিজেদের প্রভাবশালী ও মর্যাদাশালী মনে করে এবং প্রকৃত বিশ্বাসীদের (মুমিনদের) তুচ্ছজ্ঞান করে। তারা মনে করে যে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় বিশ্বাসীদের মদিনা থেকে বের করে দিতে পারবে [৫]। অথচ তারা এটা উপলব্ধি করতে পারে না যে আসল মর্যাদা ও ক্ষমতা কেবল আল্লাহ, তাঁর রসুল এবং মুমিনদেরই জন্য [৫]। ৮. বোধশক্তিহীনতা ও মোহরযুক্ত অন্তর: বারবার সত্যকে অস্বীকার করার ফলে তাদের অন্তরে মোহর লেগে গেছে, যার কারণে তারা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে [২]। উৎস অনুযায়ী, তারা প্রকৃত সত্য সম্পর্কে মোটেও সচেতন নয় এবং কিছুতেই তা বুঝতে পারে না [৪], [৫]। মুনাফেকরা তাদের শপথকে কোন উদ্দেশ্যে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে? উৎসগুলোর (সুরা আল-মুনাফিকুন) বর্ণনা অনুযায়ী, মুনাফেকরা তাদের শপথকে মূলত নিচের উদ্দেশ্যগুলোতে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে: • অপকর্ম ঢেকে রাখা: মুনাফেকরা তাদের কৃত অপকর্ম বা কুটিল কর্মকাণ্ড গোপন করার জন্য শপথকে ঢাল বা বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে [২]। তারা মুখে সত্যের সাক্ষ্য দিলেও প্রকৃতপক্ষে তা তাদের মিথ্যাকে আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র [১], [২]। • মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করা: তারা এই শপথের আড়ালে নিজেদের নিরাপদ রাখে এবং মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে লিপ্ত থাকে [২]। • মিথ্যা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন: তারা আল্লাহর রসুলের কাছে এসে দৃঢ়তার সাথে শপথ করে বলে যে তারা তাকে আল্লাহর রসুল হিসেবে মানে, যেন তাদের কথায় মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং তারা সমাজে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে পারে [১], [২]। সংক্ষেপে, তাদের এই শপথ ছিল মূলত একটি প্রতারণামূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তারা তাদের অভ্যন্তরীণ কুফরি বা সত্য প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি লুকিয়ে রেখে নিজেদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করত [২]।